Thursday , August 17 2017
Home / পরীক্ষা / প্রাথমিক / প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ এবং চাকরি স্থায়ীকরণের নীতিমালা
screenshot_15

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ এবং চাকরি স্থায়ীকরণের নীতিমালা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়ানো হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ে ৬০ শতাংশ শিক্ষকই নারী। তারা উচ্চ মাধ্যমিক পাসের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করেন। সাত বছর পর ৬৫ শতাংশ শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান। তবে প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় উন্নীতকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। এ কারণে এখন পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক (ডিগ্রি পাস) করা হচ্ছে। অবশ্য সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা বর্তমানে স্নাতকই নির্ধারিত আছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নির্ধারণ করা হচ্ছে। এজন্য নিয়োগবিধি সংশোধন করা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ নিয়ে কাজ করছে। এ নিয়োগবিধি চূড়ান্ত করে অর্থ, জনপ্রশাসন ও আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হবে।

নজরুল ইসলাম খান জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করতে হলে নারী প্রার্থীদের এইচএসসি পাস এবং পুরুষ প্রার্থীদের স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। পরিমার্জিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় নিয়োগ পাওয়ার পর শিক্ষকদের তিন বছরের মধ্যে সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন অথবা ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তিন বছরের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ নিতে না পারলে শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ী করা হবে না। আগে এই প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় ছিল চার বছর। প্রশিক্ষণের সময় এক বছর কমিয়ে আনায় শিক্ষকদের চাকরি আরও কম সময়ে স্থায়ী করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া সংশোধিত বিধিমালায় উপজেলা বা থানাভিত্তিক শূন্যপদ অনুযায়ী কোনো কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাক্রম অনুযায়ী একই উপজেলা বা ক্ষেত্রমতে থানায় উত্তীর্ণ সাধারণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে সেসব পদ পূরণের শর্ত সংযোজন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নারীদের ৬০ শতাংশ কোটা রয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ৬৫ হাজার ৮৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষকই নারী।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এসএসসি। ২০১৩ সালে তা বাড়িয়ে এইচএসসি নির্ধারণ করা হয়। এখন এইচএসসি বা সমমান অথবা স্নাতক বা সমমানের পরীক্ষায় পাস করা নারীরাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেতে নারী-পুরুষ উভয়েরই স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি পরীক্ষায় কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. হুমায়ুন খালিদ বলেন, পিছিয়ে পড়া নারীদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আগে এসএসসি উত্তীর্ণ নারীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতো। পরে তা পরিবর্তন করে এইচএসসি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, নিয়োগ পাওয়া অধিকাংশ নারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা তারও বেশি। জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। এসব কারণেই প্রাথমিকে নারী শিক্ষকদের নূ্যনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা আরও বাড়ানো দরকার হয়ে পড়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন নিয়োগবিধি অনুসারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০ শতাংশ নারী, ২০ শতাংশ পোষ্য এবং ২০ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের দিয়ে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে। এর মধ্যেই মুক্তিযোদ্ধাসহ বিদ্যমান অন্য কোটাগুলো পূরণ করা হবে

PaidVerts

Check Also

Screenshot_2

১৩ জুলাই থেকে একাদশে ভর্তি উন্মুক্ত

১৩ জুলাই থেকে একাদশে ভর্তি উন্মুক্ত একাদশ শ্রেণিতে মেধা তালিকা ও অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে বিলম্ব ...