Monday , October 23 2017
Home / খোলা কলাম / বিক্ষিপ্ত করে নয়, এক সাথে স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ
Screenshot_10

বিক্ষিপ্ত করে নয়, এক সাথে স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ

স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ শিক্ষা বান্ধব বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শিক্ষার মানোন্নয়নে তা সুদুর প্রসারী ও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে-এতে কারো কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। জাতীয়করণের ফলে আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান হবে। সরকারের তত্ত্বাবধান ও নজরদারি বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা সৃষ্টি করবে। যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। জাতি শিক্ষা থেকে কাংখিত ফল লাভ করে লাভবান হবে। শিক্ষা বাণিজ্যের চির অবসান ঘটবে। মেধাবী প্রজন্ম নিজে থেকে শিক্ষকতা পেশায় এগিয়ে আসবে। নোট-গাইডের অভিশাপ থেকে জাতি পরিত্রাণ পাবে। কোচিং বাণিজ্যের ইতি ঘটবে।

স্বাধীনতার পর এ দেশে অনেক সরকার গত হয়েছে। কিন্তু, একমাত্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ও তাঁর তনয়া শেখ হাসিনার সরকার ছাড়া আর কোনো সরকার এ চরম সত্যটি কোনদিন উপলব্ধিই করতে পারেনি। এখানেই জাতির জনক ও তাঁর কন্যার সরকারের পৃথক বিশেষত্ব। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে দূর্বল এক নড়বড়ে অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে এ দেশের স্থপতি প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন। ১৯৭৩ সালে একসাথে ৩৭০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে জাতির ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি। মাঝখানে যারাই সরকারে এসেছে, তারা এক-দু’টো স্কুল কিংবা কলেজ রাজনৈতিক অথবা অন্য কোনো স্বার্থ বিবেচনায় জাতীয়করণ করেছে বটে। এর বেশি কিছু করার সাহস কিংবা সদিচ্ছা তাদের হয়নি। ফলে আমাদের শিক্ষায় বেড়েছে কেবলি অনিয়ম আর বৈষম্য। আজ তাই আমাদের শিক্ষা নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

২০১৩ সালে জননেত্রি শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকারে এসে দেশের ২৬০০০ রেজিস্টার্ড ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের ঘোষণা একসাথে প্রদান করেন। তাই, আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা আজ পরিপূর্ণ ও মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে। অনার্স-মাস্টার্স কমপ্লিট করে ও অনেক মেধাবী এ স্তরে শিক্ষকতায় আসছেন নির্দ্বিধায়। প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে শৃংখলা , স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাতি এর সুফল ও পাচ্ছে। এ সব কৃতিত্বের একমাত্র দাবিদার জাতির জনক ও তাঁর জ্যেষ্ঠ তনয়া।

দেশ এগুচ্ছে, এগিয়ে যাচ্ছে। ‘তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ’-র দূর্ণাম ঘুচিয়ে আমাদের এখন অপার সম্ভাবনার দেশ। আমরা এখন এশিয়ার সবচেয়ে উদীয়মান জাতি। বিশ্ব ব্যাংক ইতিমধ্যে আমাদের মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০৪১ সালের আগেই আমরা উন্নত দেশের কাতারে সামিল হবো। আমরা তাই এখন বিশ্বের রোল মডেল।

বর্তমান সরকারের শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী এ জাতিকে অনেক স্বপ্ন দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন । তিনি আমাদের নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে হাঁটছেন । শিক্ষা ক্ষেত্রে নজিরবিহীন নানা উদ্যোগ নিয়েছেন । এমপিওভুক্ত সকল স্কুল-কলেজ জাতীয়করণের ইস্যুটি তিনিই সকলের সামনে নিয়ে এসেছেন । বিদায়ী শিক্ষাসচিব এন,আই খানের সাথে এ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথন এ দেশের পাঁচ লক্ষ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে নতুন এক অদম্য স্বপ্ন দেখিয়েছে। সে স্বপ্নে এখনো বিভোর তাঁরা । একটি স্বাধীন শিক্ষানীতি জাতিকে উপহার দিয়ে আমাদের শিক্ষায় নতুন এক বিপ্লবের সূচনা করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রি। ডিগ্রি স্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

গত সপ্তাহে দেশের ১৯৯ টি এমপিওভুক্ত কলেজ জাতীয়করণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। এ সপ্তাহে আরো ৭৯ টি এমপিওভুক্ত স্কুল জাতীয়করণের তালিকা দৈনিক শিক্ষাডটকম সহ নানা সংবাদ মাধ্যমে আমরা সকলে দেখেছি। এভাবে দেশে এ যাত্রা ৩১৫ টি স্কুল জাতীয়করণ হবার কথা । এ সব এমপিওভুক্ত নব জাতীয়করণকৃত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা আজ আনন্দে আত্মহারা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রির প্রতি তাঁদের অবিরত কৃতজ্ঞতা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এক সাথে এতোগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর আগে আর কেউ কোনদিন করার কীর্তি স্থাপন করতে পারে নাই। এ অনন্য অবদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রিকে দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। সে সাথে সবিনয়ে এ নিবেদনটুকু রাখতে চাই যে, বিচ্ছিন্ন ভাবে এরুপ স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ শিক্ষায় অনেক বৈষম্য সৃষ্টি করবে। এ ভাবে স্কুল-কলেজ জাতীয়করণে এক শ্রেণির দালাল ও অসাধু কর্মকর্তা জাতীয়করণের নামে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নেবার সুযোগ পাবে। অনেক রাজনৈতিক দাপুটে নেতা নিজের পছন্দসই প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে তৎপর হবেন এবং আছেন। অনেক পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের তালিকায় চলে আসবে।

এ সব অনিয়ম বন্ধ করে শিক্ষা থেকে সকল বৈষম্য ও অনিয়ম দূর করতে এমপিওভুক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক সাথে জাতীয়করণের ঘোষণা প্রদান করতে সদাশয় সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে দেশের আপামর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর পক্ষে জোর নিবেদন জানাই। এটি করার সামর্থ আমাদের হয়েছে। এখন আর পিছে থাকাবার অবকাশ নেই। ভবিষ্যতে এ সুবর্ণ সুযোগটির কৃতিত্ব আর কেউ যেন নিতে না পারে-সে আমরা চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রি, কেবল আপনি চাইলেই পারেন। এ জাতির জন্য আপনি অনেক পেরেছেন।

লেখক : অধ্যক্ষ, চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, কানাইঘাট, সিলেট ।

PaidVerts